
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র লোডশেডিং ও জেনারেটরের তেল সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালু না থাকায় হাসপাতালের ওয়ার্ড, সিঁড়ি ও বারান্দায় অন্ধকার আর গরমে হাঁসফাঁস করতে দেখা গেছে শিশু থেকে প্রবীণ রোগীদের।
গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, অনেক রোগী বেড ছেড়ে বারান্দা ও সিঁড়িতে এসে বসেছেন। কারও হাতে স্যালাইনের ক্যানোলা, কারও সঙ্গে অসুস্থ শিশু। একটু বাতাসের আশায় অনেকেই হাসপাতালের খোলা জায়গায় অবস্থান নিচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ওয়ার্ডের রোগীরা। আট মাস থেকে আট বছর বয়সী শিশুরা তীব্র গরমে ছটফট করছে। মায়েরা হাতপাখা, কাগজ কিংবা ভেজা কাপড় দিয়ে বাতাস করার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের ছাদ বা খোলা আঙিনায় হাঁটছেন।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে আসা জোসনা আক্তার জানান, হাসপাতালে এসে এমন গরম ও অন্ধকারের মধ্যে থাকতে হবে—এটি তিনি ভাবেননি।
হাতে স্যালাইনের বোতল নিয়ে সিঁড়িতে বসে থাকা আরেক রোগী হোসেন বলেন, বেডে গরমে থাকা যাচ্ছে না, তাই একটু বাতাসের আশায় সিঁড়িতে বসেছেন।
হাসপাতালে দুটি জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি তেলের সংকটে সেগুলো নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকায় দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জেনারেটর বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী জানান, সরকারি বরাদ্দে জেনারেটরের তেলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে কিছু তেলের ব্যবস্থা করে থাকে। ফলে টানা লোডশেডিং হলে জরুরি চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় জেনারেটর চালানো হয়, কিন্তু সবসময় তা সচল রাখা সম্ভব হয় না।
এদিকে তীব্র গরমের কারণে এলাকায় ডায়রিয়া, জ্বর ও সর্দি-কাশির রোগী বেড়েছে। ফলে হাসপাতালে রোগীর চাপও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ও গরমের পাশাপাশি হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ, দুর্গন্ধ, চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার মতো সমস্যাও রয়েছে।
রোগ সারাতে এসে উল্টো আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন রোগীরা। লোডশেডিং ও জেনারেটরের জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।